August 01, 2021

বিভিন্ন প্রকার বচনের শ্রেণীবিভাগ করো | Philosophy | Class 12 Note with PDF | ClassGhar |



বিভিন্ন প্রকার বচনের শ্রেণীবিভাগ 

*গঠন অনুসারে বচন কয় প্রকার ও কি কি ?

 দুইপ্রকার- সরল বচন ও যৌগিক বচন।

সরল বচন- যে বচনে একটিমাত্র অবধারণ প্রকাশ পায় তাকে সরল বচন বলে। যেমন- রাম হয় চালাক।

যৌগিক বচন- যে বচনে একাধিক অবধারণ প্রকাশ পায় তাকে যৌগিক বচন বলে ।যেমন- রাম হয় চালাক কিন্তু শ্যাম হয় বোকা ।

 *নিশ্চয়তা অনুসারে বচন কয় প্রকার ও কি কি ?

তিন প্রকার- অনিবার্য বচন, সম্ভাব্য বচন ও বিবরিণক বচন।

অনিবার্য বচন- যে বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ এর মধ্যে অনিবার্য বা আবশ্যিক সম্বন্ধ প্রকাশ পায় তাকে অনিবার্য বচন বলে। যেমন- রক্ত হয় লাল।

সম্ভাব্য বচন- যে বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ এর মধ্যে এক সম্ভাবনা প্রকাশ পায় তাকে সম্ভাব্য বচন বলে।

 যেমন- কোন কোন আম হয় টক ।

বিবরণিক বচন- যে বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ এর মধ্যে কোন বিবৃতি প্রকাশ পায় তাকে বলে বিবরণিক বচন।

 যেমন- ঘাস হয় সবুজ।

*তাৎপর্য অনুসারে বচন কয় প্রকার ও কি কি?

  দুই প্রকার- বিশ্লেষক বচন ও সংশ্লেষক বচন।

বিশ্লেষক বচন- যে বচনে  বিধেয় পদ টি উদ্দেশ্য পদ সম্বন্ধে কোন তথ্য দেয় না, যা উদ্দেশ্য পদ এর পুনরাবৃত্তি বোঝায় তাকে বিশ্লেষক বচন বলে। যেমন - মানুষ হয় বিচারশীল জীব।

                                রক্ত জবা হয় লাল।

সংশ্লেষক বচন- যে বচনে বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদ সম্বন্ধে কোনো নতুন তথ্য দেয় তাকে সংশ্লেষক বচন বলে ।

যেমন- মানুষ হয় মরণশীল। 

       জবাফুল হয় লাল ।

 *সম্বন্ধ অনুসারে বচন কয় প্রকার ও কি কি ?

দুই প্রকার- নিরপেক্ষ বচন ও সাপেক্ষ বচন

নিরপেক্ষ বচন (শর্তহীন বচন )- যে বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ এর মধ্যে কোন শর্ত থাকেনা তাকে নিরপেক্ষ বচন বলে। যেমন- আকাশ হয় নীল।

           সকল ছাত্র হয় বিনয়ী।

সাপেক্ষ বচন (শর্তনির্ভর বচন )- যে বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ এর মধ্যে কোন শর্ত থাকে, তাকে সাপেক্ষ বচন বলে। যেমন - যদি মেঘ হয় তবে বৃষ্টি হবে। যদি ধোঁয়া থাকে তবে আগুন থাকে। রোদ হবে অথবা বৃষ্টি হবে ।

*সাপেক্ষ বচন কয় প্রকার ও কি কি ?

দুই প্রকার- প্রাকল্পিক বচন ও বৈকল্পিক বচন ।

প্রাকল্পিক বচন (স্পষ্টশর্ত নির্ভর বচন)- যে সাপেক্ষ বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ এর সম্বন্ধের মধ্যে স্পষ্ট উল্লেখ থাকে তাকে প্রাকল্পিক বচন বলে। যেমন -যদি মেঘ হয় তবে বৃষ্টি হবে ।

                           যদি রাম আসে তবে শ্যাম যাবে ।

প্রাকল্পিক বচন এর গঠন– যদি, তবে এই জাতীয় যোজক দ্বারা প্রাকল্পিক বচন গঠন করা হয় ।

 প্রাকল্পিক বচন এর অংশ কয়টি ও কি কি ?

দুইটি- পূর্বগ ও অনুগ।

পূর্বগ- প্রাকল্পিক বচন এর যে অংশে শর্ত থাকে তাকে পূর্বগ বলে। যার সাংকেতিক চিহ্ন “P”।

অনুগ- প্রাকল্পিক বচন এর যে অংশটির দ্বারা মূল বিষয়কে বোঝায় তাকে অনুগ বলে। যার সাংকেতিক চিহ্ন “Q”।

 যেমন- যদি জল পান করি তবে তৃষ্ণা মিটবে।

বৈকল্পিক বচন (স্পষ্ট শর্ত নির্ভর নয়)- যে সাপেক্ষ বচনে উদ্দেশ্য -বিধেয় পদ এর মধ্যে শর্তের স্পষ্ট উল্লেখ থাকে না, দুটি বিরুদ্ধ সম্ভাবনাকে কেবল একটি পৃথক সম্ভাবনা-রূপে নির্দেশ করা বোঝায়। তাকে বৈকল্পিক বচন বলে ।

যেমন -রাম যাবে অথবা শ্যাম  যাবে। 

  আমি বাড়ি থাকবো অথবা স্কুলে থাকবো।

বৈকল্পিক বচন এর গঠন- হয় বা না হয়, কিংবা, অথবা এই জাতীয় যোজক দ্বারা বৈকল্পিক বচন গঠন করা হয়।

 প্রতীকী আকার-অথবা

*বৈকল্পিক বচন এর অংশ কয়টি ও কিকি?

 দুটি অংশ- প্রথম বিকল্প ও দ্বিতীয় বিকল্প ।

 যেমন- “P’ অথবা “Q”।

*পরিমাণ অনুসারে বচন কয় প্রকার ও কি কি?

দুই প্রকার সামান্য বচন ও বিশেষ বচন।

সামান্য বচন (সমগ্র স্বীকার বা অস্বীকার)- এখানে "সামান্য" কথার অর্থ জাতি অর্থাৎ সকল বা সমগ্র ।তাই যে বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ এর সম্বন্ধ টি  সমগ্র রূপে স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় তাকে সামান্য বচন বলে। যেমন- সকল মানুষ হয় পরিশ্রমী । (সমগ্র স্বীকার )

কোনো মানুষ নয় পরিশ্রমী (সমগ্র অস্বীকার) এখানে "পরিশ্রমী" গুণটি  একবার মানুষ শ্রেণীর সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অর্থে স্বীকার করা  বোঝাচ্ছে এবং একটিতে তা সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করা বোঝাচ্ছে। তাই দুটিই  যথার্থ সামান্য বচন বলা যায়।

বিশেষ বচন (আংশিক স্বীকার বা অস্বীকার)- এখানে "বিশেষ "কথার অর্থ আংশিক বা কিছু কিছু। যে বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ এর সম্বন্ধ টি আংশিক রূপে  স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়,তাকেই বিশেষ বচন বলে।

যেমন -কোনো কোনো ছাত্র হয় বিনয়ী। (আংশিক স্বীকার )

 কোন কোন ছাত্র নয় বিনয়ী ।(আংশিক অস্বীকার) এখানে "বিনয়ী" গুণটি একটিতে আংশিক ছাত্র সম্বন্ধে স্বীকার করা বোঝাচ্ছে এবং একটিতে তা আংশিক  ছাত্র সম্বন্ধে অস্বীকার করা বোঝাচ্ছে। তাই দুটিই যথার্থ বচন বলা যায় ।

*গুণ অনুসারে বচন কয় প্রকার ও কি কি ?

দুই প্রকার- সদর্থক বচন ও নঞর্থক  বচন ।

সদর্থক বচন( স্বীকার মূলক)- যে বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ এর সম্বন্ধটি  সমগ্র রূপে বা আংশিক রূপে স্বীকার  করা বোঝায় তাকে সদর্থক বচন বলে। যেমন -সকল ছাত্র হয় চালাক।(সমগ্র )

 কোন কোন ছাত্র হয় চালাক।(আংশিক)

নঞর্থক বচন( অস্বীকার মূলক)- যে বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ এর সম্বন্ধ টি সমগ্র বা  আংশিক রূপে অস্বীকার করা বোঝায় ,তাকে নঞর্থক বচন বলে।

 যেমন -কোনো ছাত্র নয় চালাক।( সামগ্রিক)

 কোন কোন ছাত্র নয় চালাক।(আংশিক )


Download Pdf